আচ্ছা , জ্যোৎস্নার রাতে ঘুম না আসাটাকেই কি বিশেষজ্ঞরা প্রেম বলে?
রাত ২টা ২০মিনিট
চাঁদের ১৩ তাং হতে পারে আজ।
রাত যত গভীর হচ্ছে, জ্যোৎস্নার আলো ততই প্রখর হতে প্রখর হচ্ছে। জানালার পর্দাটাও নামিয়ে দিয়েছি, এই তীব্র গরমের মধ্যেও কাঁথা দিয়ে মুখ ঢেকে দিলাম। এই নিস্তব্ধ রাতে মাঝেমধ্যে গাড়ির আওয়াজের পাশাপাশি খুব পরিচিতি একটা সুর কানে আসতেছে। এবার, কানে হেডফোন দিয়ে full volume দিয়ে গান ছেড়ে দিলাম। গানের অর্থ কিছুই বুঝা যাচ্ছে না, কেননা এখনো সেই চেনা সুরটি কানে আসতেছে।
না...আর সহ্য করা যাচ্ছে না। হেডফোন ফেলে দিলাম, কাঁথাটাও সরিয়ে নিলাম এবং এক দৌড়ে বেলকনিতে চলে গেলাম।
রাত ৩টা পেরোবার সময় হচ্ছে, চারদিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে , চাঁদ যেন তার সমস্ত শুভ্র জ্যোৎস্না আজ ঢেলে দিচ্ছে পৃথিবীর বুকে।
তারপরও নিজেকে অনেক সামলিয়ে নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার পরও ব্যার্থ হয়ে বসে গেলাম সৌন্দর্যটুকু দেখতে।
খুব ইচ্ছে হচ্ছিল, একটা মাইক নিয়ে শহরের সব অলি গলিতে ঘুরে ঘুরে সবার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিতে। যারা তাদের গভীর ঘুম হতে উঠতে চাইবে না তাদেরকেও ডেকে দিব। কত্তো বোকা এরা..তাদের ঘুম কি এমন সৌন্দর্যের কাছে কিছু.!
কিন্তু আবার ভাবতে লাগলাম, শহরের সবাই তো বোকা হতে পারে না। না.. সিদ্ধান্ত পাল্টিয়ে ফেললাম, কাউকে জাগিয়ে দেয়ার দরকার নেই। চাঁদ যেমন তার জ্যোৎস্নার সর্বোচ্চটাই আজ ঢেলে দিচ্ছে, তেমনি আমিও শুধুই একাই ভোগ করব সৌন্দর্যটুকু।
এমন সময়, হঠাৎ মোবাইল বেজে উঠল, প্রথমে ভাবলাম এত রাতে কল কে দিতে পারে! কিন্তু না, মোবাইল হাতে নিতেই জানতে পারলাম, এটা কল ছিল না, এলার্ম ছিল। Alarm এর নাম ছিল..কৃর্তী।
নাম দেখতেই,ধুকধুক করে বুকটা কেঁপে উঠল, একটা বড় নিশ্বাস নিয়ে তাড়াতাড়ি হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে, বেলকনির বাগান হতে একগুচ্ছ রজনীগন্ধা ফুল নিয়ে ছাঁদে চলে গেলাম।
তাঁর খুব পছন্দের ছিল রজনীগন্ধা। হ্যা, বেলকনির ফুল বাগানের মধ্যে তাঁর উপহার দেওয়া রজনীগন্ধা ফুল গাছ একটাও আছে।
ছাঁদে একা এক গুচ্ছ রজনীগন্ধা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, কৃর্তী আসবে না সেটা জানার পরও..
বছর তিনেক আগে প্রথম দেখা হয়েছিল কৃর্তীর সাথে যখন আমি আর কৃর্তী কলেজে পড়তাম। হুমমম, তবে একই কলেজে পড়তাম না, দেখাটা হয়েছিল কোন এক কোচিং ক্লাসে। ভাললাগাটা কিভাবে হয়েছিল জানা নেই, হয়তো দেখতে দেখতে ভাললাগাটা হয়ে গিয়েছিল।
কে জানত, সেই ভাল লাগাটা একদিন ভালবাসতে পরিণত হবে।
ইন্ট্রুভার্ট টাইপের ছিলাম, তাই কোন মেয়ের চোখে চোখ রাখার সেই দুঃসাহসটি কখনো হয়ে উঠে নি।
ক্লাসের ফাস্ট বেঞ্চে বসতো প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত ক্লাসে স্যারের পড়ায় রেসপন্স করতো সে। অনেকদিন ভাবার পর আমিও তাঁকে ইমপ্রেস করার জন্য ক্লাসের ফাস্ট বেঞ্চে বসার পাশাপাশি স্যারের পড়ার সাথে রেসপন্স করতে থাকি। এরমধ্যেই, হঠাৎ কোন একদিন ক্লাস শেষে বাসায় যাওয়ার সময় পেছন হতে কেউ একজন হাত ধরে একটা রুমে টেনে নিল।
নিজেকে বিশ্বাস হচ্ছিল না এই ভেবে যে, যার সাথে কথা বলার জন্য এতদিন অপেক্ষা করছিলাম আর আজ সেই কৃর্তী আমার হাত ধরে টেনে একটা রুমে নিয়ে গেল। ইতস্তত কাটিয়ে, কোন কিছু বুঝার কিংবা বলার আগেই আমাকে প্রপোজ করে বসল।
কি বলব বুঝতেছি না, হা করে দাঁড়িয়ে রইলাম। যাকে এমন কিছু বলার জন্য এতদিন অপেক্ষা করতেছিলাম, আর সে কিনা, একটা মেয়ে হওয়ার পরও আমকে প্রপোজ করে বসল!!!
এখনো হা করিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, কৃর্তী নিজ হতেই বলল, যাও বাবু বাসায় যাও, কাল হতে প্রতিদিন আমি তোমার বাসার নিচে সকাল ঠিক ৯টায় অপেক্ষা করব, আর তুমি একদম দেরী না করে চলে আসবে। আমিও হ্যা বলে মাথা নেড়ে চলে আসলাম, আর কৃর্তী তাঁর বান্ধবীদের সাথে চলে গেল।
কিছুই বুঝলাম না, ওকে ভাললাগার কথাটা আমি কাউকে বলি নাই, এমনি কি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড মামুনকেও না। তাহলে সে জানল কেমনে.আর আমার মত ছেলেকেই কেমনে বা কি দেখে প্রপোজ করল!
যাইহোক পরে জেনে নিব.
পরের দিন আম্নু ঘুম হতে ডেকে দেওয়ার আগেই ঘুম ভেঙ্গে গেল, হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি নাস্তা করে বেরিয়ে পড়লাম ৮টা ৩০ এর দিকে। আমি তাড়াতাড়ি চলে আসছি, সে যদি এসে আমার জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকে, তাহলে তার খারাপ ভেবে, কিন্তু না, সে আসল ঠিক ৯টায়। এই আধ ঘন্টা যে কিভাবে কাটিয়েছি নিজেও জানি না শুধু মনে হচ্ছিল , এর চেয়েও মনে হয় সাগর পাড়ি দেওয়া আরও সহজ হতো।
যাইহোক এভাবে প্রতিদিন কোচিং এ যেতাম আর আসতাম, তখন কলেজ হতে বিদায় নেওয়ার পর ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার আগে কোচিংএ ক্লাস টেস্ট দিচ্ছিলাম। এভাবে চলে যাচ্ছে আমাদের পড়াশোনা, আর সেই সাথে নিয়মিত পড়াশোনার সম্পর্কিত কথোপকথন। এরই মাঝে সে আমাকে আর একবারও প্রফোজ করা নিয়ে কোন কথাও বলে নাই, আমিও বলি নাই, এমনকি প্রপোজ করার পর হ্যা বা না সেটাও বলিও নাই, প্রতিদিন দিন কাটত পড়াশোনার ব্যাপারে কথা বলে বলে। এভাবে ফাইনাল পরীক্ষা ও শেষ হল, এখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। দুজনই একই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলাম, এবং পড়ার জন্য দুজনই একটাই রুটিন করলাম, এবং খুব ভালভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আড্ডাও হতো পড়াও হতো এভাবেই চলে আসল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা।
পরীক্ষার ২দিন পর রেজাল্ট দিবে আজ, পরীক্ষা দিতে চাওয়ার আগ হতে আর আমাদের দেখা হয় নাই.রেজাল্ট ঠিক রাত ১০টায় দিল। প্রথমে কৃর্তীর রোল নং দিয়ে সার্চ করার পর পজিশন ৩৮, এরপর তাড়াহুড়ো করে আমারটাও সার্চ দেওয়ার পর পজিশন ৭৩, আলহামদুলিল্লাহ, দুজনেই স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স ফেলাম। অনেক খুশি.....
অনেক আগে হতেই ঠিক করছিলাম, যেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির রেজাল্ট দিবে সেদিনই তাঁকে আমার ভালবাসাটা সম্পূর্ণ ঢেলে দিব.
যাইহোক রেজাল্ট পাওয়ার পর ,
কল দিব কৃর্তীকে ঠিক সেই মূহুর্তে কৃর্তীর কল।
দুজনই অনেক খুশি। পরের দিন দেখার জন্য একটা জায়গা ঠিক করলাম, ঠিক চারটায় দেখা করব, সেদিনও আধ ঘন্টা আগ হতে ১টি নীল শাড়ী সাথে কিছু নীল চুড়ি নিয়ে এবং ১গুচ্চ রজনীগন্ধা নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। এবং সেও ১টা পাঞ্জাবি নিয়ে আসল সাথে। ফাইনালি, আমিও প্রপোজ করলাম। এবং দুজনেই ড্রেসিং রুম হতে কাপড় চেন্জ করি। সে আমার দেয়া নীল শাড়ী এবং চুড়ি আর আমি তার দেয়া পাঞ্জাবি পড়ে সারা শহর রিকশা নানান গল্পের মধ্য দিয়ে কাটালাম।
এভাবে চলতে লাগল আমাদের এই ছোট্ট জীবন ছোট্ট ছোট্ট কিছু স্বপ্ন নিয়ে। প্রতি জ্যোৎস্নার রাতে ঘুমাতে দিত না আমাকে, জ্যোৎস্নার সৌন্দর্য টাকে নাকি ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য। সে বলতো, প্রেমে পড়লে সবাই প্রাকৃতিক নিয়মেই কবি হয়ে যায়, আর কবি কিংবা লেখকদের নাকি এমন জ্যোৎস্নার মধ্যে ঘুমাতে নেই। তাই দুজনেই দুজায়গায় বসে চাঁদ হতে ফলিত সেই জ্যোৎস্নাটাকে নিয়ে নানান কবিতা একে অপরকে শুনাই। প্রতিদিন নতুন নতুন স্বপ্ন বুনি। আর হ্যা, কৃর্তীর কণ্ঠ অনেক মধুর ছিল, আর সেই মধুর কণ্ঠে আমাকে তার গান শুনাত। আহা সেই সুর....যেন….।
সময়গুলো খুব ভালোই যাচ্ছিল দুজনার। কিন্তু কয়েক দিন ধরে হঠাৎ লক্ষ করতেছি, কৃর্তী আমাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতেছে। তাঁর কিন্তু এখন তেমন বিশেষ কেউ নেই যে, আমি ছাড়া, যার জন্য আমাকে এড়িয়ে চলতেছে। কথা বললে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে, মেসেজ দিলে রিপ্লাই দেয় না, কল দিলে রিসিভ করে না....
ইদানীং বিশ্ববিদ্যালয়ে ও আসতেছে না, ওদের বাড়ির সাথে যোগাযোগ করলে জানায়, ওর নাকি শরীরটা ভাল নাই, জাস্ট এতটুকুই।
আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করেই যাচ্ছি, তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য।
এর কয়েক সপ্তাহ পর ১টা মেইল আসল কৃর্তীর কাছ হতে
কে জানত, সেই ভাল লাগাটা একদিন ভালবাসতে পরিণত হবে।
ইন্ট্রুভার্ট টাইপের ছিলাম, তাই কোন মেয়ের চোখে চোখ রাখার সেই দুঃসাহসটি কখনো হয়ে উঠে নি।
ক্লাসের ফাস্ট বেঞ্চে বসতো প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত ক্লাসে স্যারের পড়ায় রেসপন্স করতো সে। অনেকদিন ভাবার পর আমিও তাঁকে ইমপ্রেস করার জন্য ক্লাসের ফাস্ট বেঞ্চে বসার পাশাপাশি স্যারের পড়ার সাথে রেসপন্স করতে থাকি। এরমধ্যেই, হঠাৎ কোন একদিন ক্লাস শেষে বাসায় যাওয়ার সময় পেছন হতে কেউ একজন হাত ধরে একটা রুমে টেনে নিল।
নিজেকে বিশ্বাস হচ্ছিল না এই ভেবে যে, যার সাথে কথা বলার জন্য এতদিন অপেক্ষা করছিলাম আর আজ সেই কৃর্তী আমার হাত ধরে টেনে একটা রুমে নিয়ে গেল। ইতস্তত কাটিয়ে, কোন কিছু বুঝার কিংবা বলার আগেই আমাকে প্রপোজ করে বসল।
কি বলব বুঝতেছি না, হা করে দাঁড়িয়ে রইলাম। যাকে এমন কিছু বলার জন্য এতদিন অপেক্ষা করতেছিলাম, আর সে কিনা, একটা মেয়ে হওয়ার পরও আমকে প্রপোজ করে বসল!!!
এখনো হা করিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, কৃর্তী নিজ হতেই বলল, যাও বাবু বাসায় যাও, কাল হতে প্রতিদিন আমি তোমার বাসার নিচে সকাল ঠিক ৯টায় অপেক্ষা করব, আর তুমি একদম দেরী না করে চলে আসবে। আমিও হ্যা বলে মাথা নেড়ে চলে আসলাম, আর কৃর্তী তাঁর বান্ধবীদের সাথে চলে গেল।
কিছুই বুঝলাম না, ওকে ভাললাগার কথাটা আমি কাউকে বলি নাই, এমনি কি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড মামুনকেও না। তাহলে সে জানল কেমনে.আর আমার মত ছেলেকেই কেমনে বা কি দেখে প্রপোজ করল!
যাইহোক পরে জেনে নিব.
পরের দিন আম্নু ঘুম হতে ডেকে দেওয়ার আগেই ঘুম ভেঙ্গে গেল, হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি নাস্তা করে বেরিয়ে পড়লাম ৮টা ৩০ এর দিকে। আমি তাড়াতাড়ি চলে আসছি, সে যদি এসে আমার জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকে, তাহলে তার খারাপ ভেবে, কিন্তু না, সে আসল ঠিক ৯টায়। এই আধ ঘন্টা যে কিভাবে কাটিয়েছি নিজেও জানি না শুধু মনে হচ্ছিল , এর চেয়েও মনে হয় সাগর পাড়ি দেওয়া আরও সহজ হতো।
যাইহোক এভাবে প্রতিদিন কোচিং এ যেতাম আর আসতাম, তখন কলেজ হতে বিদায় নেওয়ার পর ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার আগে কোচিংএ ক্লাস টেস্ট দিচ্ছিলাম। এভাবে চলে যাচ্ছে আমাদের পড়াশোনা, আর সেই সাথে নিয়মিত পড়াশোনার সম্পর্কিত কথোপকথন। এরই মাঝে সে আমাকে আর একবারও প্রফোজ করা নিয়ে কোন কথাও বলে নাই, আমিও বলি নাই, এমনকি প্রপোজ করার পর হ্যা বা না সেটাও বলিও নাই, প্রতিদিন দিন কাটত পড়াশোনার ব্যাপারে কথা বলে বলে। এভাবে ফাইনাল পরীক্ষা ও শেষ হল, এখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। দুজনই একই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলাম, এবং পড়ার জন্য দুজনই একটাই রুটিন করলাম, এবং খুব ভালভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আড্ডাও হতো পড়াও হতো এভাবেই চলে আসল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা।
পরীক্ষার ২দিন পর রেজাল্ট দিবে আজ, পরীক্ষা দিতে চাওয়ার আগ হতে আর আমাদের দেখা হয় নাই.রেজাল্ট ঠিক রাত ১০টায় দিল। প্রথমে কৃর্তীর রোল নং দিয়ে সার্চ করার পর পজিশন ৩৮, এরপর তাড়াহুড়ো করে আমারটাও সার্চ দেওয়ার পর পজিশন ৭৩, আলহামদুলিল্লাহ, দুজনেই স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স ফেলাম। অনেক খুশি.....
অনেক আগে হতেই ঠিক করছিলাম, যেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির রেজাল্ট দিবে সেদিনই তাঁকে আমার ভালবাসাটা সম্পূর্ণ ঢেলে দিব.
যাইহোক রেজাল্ট পাওয়ার পর ,
কল দিব কৃর্তীকে ঠিক সেই মূহুর্তে কৃর্তীর কল।
দুজনই অনেক খুশি। পরের দিন দেখার জন্য একটা জায়গা ঠিক করলাম, ঠিক চারটায় দেখা করব, সেদিনও আধ ঘন্টা আগ হতে ১টি নীল শাড়ী সাথে কিছু নীল চুড়ি নিয়ে এবং ১গুচ্চ রজনীগন্ধা নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। এবং সেও ১টা পাঞ্জাবি নিয়ে আসল সাথে। ফাইনালি, আমিও প্রপোজ করলাম। এবং দুজনেই ড্রেসিং রুম হতে কাপড় চেন্জ করি। সে আমার দেয়া নীল শাড়ী এবং চুড়ি আর আমি তার দেয়া পাঞ্জাবি পড়ে সারা শহর রিকশা নানান গল্পের মধ্য দিয়ে কাটালাম।
এভাবে চলতে লাগল আমাদের এই ছোট্ট জীবন ছোট্ট ছোট্ট কিছু স্বপ্ন নিয়ে। প্রতি জ্যোৎস্নার রাতে ঘুমাতে দিত না আমাকে, জ্যোৎস্নার সৌন্দর্য টাকে নাকি ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য। সে বলতো, প্রেমে পড়লে সবাই প্রাকৃতিক নিয়মেই কবি হয়ে যায়, আর কবি কিংবা লেখকদের নাকি এমন জ্যোৎস্নার মধ্যে ঘুমাতে নেই। তাই দুজনেই দুজায়গায় বসে চাঁদ হতে ফলিত সেই জ্যোৎস্নাটাকে নিয়ে নানান কবিতা একে অপরকে শুনাই। প্রতিদিন নতুন নতুন স্বপ্ন বুনি। আর হ্যা, কৃর্তীর কণ্ঠ অনেক মধুর ছিল, আর সেই মধুর কণ্ঠে আমাকে তার গান শুনাত। আহা সেই সুর....যেন….।
সময়গুলো খুব ভালোই যাচ্ছিল দুজনার। কিন্তু কয়েক দিন ধরে হঠাৎ লক্ষ করতেছি, কৃর্তী আমাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতেছে। তাঁর কিন্তু এখন তেমন বিশেষ কেউ নেই যে, আমি ছাড়া, যার জন্য আমাকে এড়িয়ে চলতেছে। কথা বললে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে, মেসেজ দিলে রিপ্লাই দেয় না, কল দিলে রিসিভ করে না....
ইদানীং বিশ্ববিদ্যালয়ে ও আসতেছে না, ওদের বাড়ির সাথে যোগাযোগ করলে জানায়, ওর নাকি শরীরটা ভাল নাই, জাস্ট এতটুকুই।
আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করেই যাচ্ছি, তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য।
এর কয়েক সপ্তাহ পর ১টা মেইল আসল কৃর্তীর কাছ হতে
লেখা ছিল..
⇨আমি তোমাকে অনে...ক বেশি ভালবাসি। সেটা চাঁদের বিশুদ্ধ জ্যোৎস্না হয়তো সাক্ষী আছে, আমি হয়তো আর বেশিদিন বাঁচব না, আমার ক্যানসার হয়েছে। আমি চাইছিলাম তুমি আমাকে ভুলে গিয়ে অন্য কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়, যাতে আমার জন্য তোমার কষ্ট না হয়। কিন্তু না, তুমি দেখি আমার চেয়েও জেদী, আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য চেষ্টা করেই যাচ্ছ। আমি কখনো ভুলব না তোমার সাথে কাটানো সেই জ্যোৎস্নার রাতগুলো। আমাকে ভুলে থাকতে চেষ্টা কর। যখন আমাকে দেখতে তেমার মন চাইবে তখন জ্যোৎস্নার আলোর মধ্যেই আমাকে খোঁজে নিও। আমি সবসময়ই তোমার পাশে রব'
ইতি তোমার রাজকুমারী
কৃর্তী"
এর পরের দিন সকালেই তাঁর চির বিদায়ী হওয়ার খবর আসলো।
আর সে হতে আমি এখনো চাঁদের জ্যোৎস্না প্রখর হওয়ার অপেক্ষায় থাকি। এবং প্রতিবছর এই দিনে বাড়ির ছাঁদে গিয়ে কৃর্তীর পছন্দের রজনীগন্ধা হাতে নিয়ে চাঁদের সাথে কথা বলতে থাকি..।
আর রাত জেগে জ্যোৎস্নার আলোর মধ্যে তাঁকে দেখতে পায়। শত অভিমান করে ভুলার চেষ্টা করলেও সেই সুর আমাকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যায় কৃর্তীর (জ্যোৎস্নার আলো) মাঝে। আর হয়তো বিশেষজ্ঞরা এটাকেই প্রেম বলে.।
⇨আমি তোমাকে অনে...ক বেশি ভালবাসি। সেটা চাঁদের বিশুদ্ধ জ্যোৎস্না হয়তো সাক্ষী আছে, আমি হয়তো আর বেশিদিন বাঁচব না, আমার ক্যানসার হয়েছে। আমি চাইছিলাম তুমি আমাকে ভুলে গিয়ে অন্য কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়, যাতে আমার জন্য তোমার কষ্ট না হয়। কিন্তু না, তুমি দেখি আমার চেয়েও জেদী, আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য চেষ্টা করেই যাচ্ছ। আমি কখনো ভুলব না তোমার সাথে কাটানো সেই জ্যোৎস্নার রাতগুলো। আমাকে ভুলে থাকতে চেষ্টা কর। যখন আমাকে দেখতে তেমার মন চাইবে তখন জ্যোৎস্নার আলোর মধ্যেই আমাকে খোঁজে নিও। আমি সবসময়ই তোমার পাশে রব'
ইতি তোমার রাজকুমারী
কৃর্তী"
এর পরের দিন সকালেই তাঁর চির বিদায়ী হওয়ার খবর আসলো।
আর সে হতে আমি এখনো চাঁদের জ্যোৎস্না প্রখর হওয়ার অপেক্ষায় থাকি। এবং প্রতিবছর এই দিনে বাড়ির ছাঁদে গিয়ে কৃর্তীর পছন্দের রজনীগন্ধা হাতে নিয়ে চাঁদের সাথে কথা বলতে থাকি..।
আর রাত জেগে জ্যোৎস্নার আলোর মধ্যে তাঁকে দেখতে পায়। শত অভিমান করে ভুলার চেষ্টা করলেও সেই সুর আমাকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যায় কৃর্তীর (জ্যোৎস্নার আলো) মাঝে। আর হয়তো বিশেষজ্ঞরা এটাকেই প্রেম বলে.।

0 Comments